Header Ads

বিসিএস (প্রিলি) প্রস্তুতি ও ভাইভার জন্য কফি আনান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ্ তথ্য/Important information about Kofi Annan the preparation for BCS (Preli) and BCS viva


BPSC-geniusmanik.com

বিসিএস (প্রিলি) প্রস্তুতি ও ভাইভার জন্য কফি আনান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ্ তথ্য

পুরো নামঃ কফি আততা আনান
জন্মঃ  এপ্রিল, ১৯৩৮। কুমাসি, গোল্ড কোস্ট (বর্তমানে কুমাসি, ঘানা) তার বাবা ছিলেন দেশটির একজন প্রাদেশিক গভর্নর। আনান ছিলেন বোন ইফুয়া আত্তার যমজ। তিনি এবং তার বোন সে দেশের আশান্তি ফানতে নামক অভিজাত দুটি গোষ্ঠীতে জন্ম নেন এবং তাদের দাদা চাচারা ছিলেন উপজাতীয় গোষ্ঠীপ্রধান। আকানদের সংস্কৃতিতে অনেক ছেলে মেয়ের নাম সপ্তাহের যেদিনে সে জন্মগ্রহণ করেছে সেদিনের সাথে সংযুক্ত রেখে রাখা হয়, এবং তার কতজন বড় ভাই/বোন আছে সেটার হিসাবেও রাখা হয়। কফি নামটা তাদের ভাষায় শুক্রবারের সাথে সম্পৃক্ত
ধর্মঃ প্রোটেস্ট্যান্ট, খ্রিস্টান
শিক্ষা জীবনঃ
১৯৫৪ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত কফি আনান কেপ কোস্টে এমফ্যানসিপাম নামে একটি অভিজাত মেথডিস্ট আবাসিক স্কুলে পড়ালেখা করেন। ১৯৫৭ সালে আনান এমফ্যানসিফাম থেকে পাশ করেন এবং সে বছরই গোল্ড কোস্ট যুক্তরাজ্যের অধীনতা থেকে মুক্তি পায় আর দেশের নতুন নাম হয়ঘানা ১৯৫৮ সালে আনান কোমাসি কলেজ অফ সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে অর্থনীতিতে পড়া শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে ফোর্ড ফাউন্ডেশন থেকে তিনি অনুদান পান যার দ্বারা যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় ম্যাকালেস্টার কলেজে অর্থনীতিতে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পড়া শেষ করেন। ১৯৬১-৬২ সময়কালে তিনি জেনেভার দ্য গ্র্যাজুয়েট ইন্সটিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর কয়েক বছর কর্ম অভিজ্ঞতার পর তিনি এমআইটি স্লোন স্কুল অব ম্যানেজমেন্টে ১৯৭১-৭২ সময়কালে স্লোন ফেলোজ প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করেন এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন
দাম্পত্য সঙ্গীঃ টিটি আলাকিযা (১৯৬৫-১৯৭০), নেইন লাগেরগ্রেন(১৯৮৪-বর্তমান)
সন্তানঃ কোজো, আমা, নিনা
কফি আনানের বর্ণাঢ্য জীবনঃ
কফি আনান ঘানার একজন কূটনীতিবিদ এবং জাতিসংঘের সপ্তম মহাসচিব ( জানুয়ারি ১৯৯৭৩১ ডিসেম্বর ২০০৬) খ্রিস্টান ধর্মালম্বী হিসেবে প্রোটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায় জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।কফি আনান এবং জাতিসংঘ যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার (২০০১) লাভ করেন। তিনি "কফি আনান ফাউন্ডেশনের" প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া নেলসন ম্যান্ডেলা প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সংগঠন "দা এল্ডারস" এর চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৬২ সালে কফি আনান জাতিসংঘের সহযোগী সংগঠন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাজেট অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঘানার পর্যটনের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। ১৯৮০ সালে তাকে জেনেভায় জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রধান নিযুক্ত করা হয়। ১৯৮৩ সালে তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সচিবালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সেবার পরিচালক পদে আসীন হন। ১৯৮০ দশকের শেষদিকে তিনি জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব হিসেবে পরপর তিনটি পদের দায়িত্ব পান। সেগুলো হলো- মানবসম্পদ, ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা সমন্বয়ক (১৯৮৭১৯৯০); কর্মসূচী পরিকল্পক, বাজেট ফিন্যান্স, এবং নিয়ন্ত্রক (১৯৯০-১৯৯২); শান্তিরক্ষা কার্যক্রম (মার্চ, ১৯৯৩ডিসেম্বর,১৯৯৬)
১৯৯২ সালে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব বুত্রোস ঘালি ডিপার্টমেন্ট অফ পিস কিপিং অপারেশনস (ডিপিকেও) চালু করার পর প্রধান হিসেবে আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ম্যারাক গোল্ডিং এবং তার ডেপুটি বা সহকারী হিসেবে আনানকে নিয়োগ দেয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালের মার্চে আনান গোল্ডিংয়ের পদে উন্নীত হন। তার এই শান্তিরক্ষা প্রধানের পদে থাকার সময়কালেই সোমালিয়ার যুদ্ধ হয় যেখানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন চরমভাবে ব্যর্থ হয় এবং সংঘটিত হয় রুয়ান্ডার গণহত্যা (১৯৯৪) ১৯৯৫ সালের ২৯ শে আগস্ট মহাসচিব বুত্রোস ঘালি যখন উড়োজাহাজে ছিলেন বলে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না, কফি আনান জাতিসংঘ কর্মচারীদেরকেবসনিয়ায় বিমান হামলার বিরুদ্ধে তাদের ভেটো দেয়ার ক্ষমতা সীমিত সময়ের জন্য বন্ধ রাখতেনির্দেশনা দিয়েছিলেন। এর ফলে ন্যাটো তাদের অপারেশন ডেলিবারেট ফোর্স পরিচালনের সুযোগ পায় এবং আনান যুক্তরাষ্ট্রের সুনজরে আসেন। রিচার্ড হলব্রুকের মতে, আনানেরসাহসী উদ্যোগেযুক্তরাষ্ট্র আশ্বস্ত হয় যে বুত্রোস ঘালির পরিবর্তে তিনিই উপযুক্ত লোক হবেন। ১৯৯৭ সালে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান হিসেবে জাতিসংঘের সপ্তম মহাসচিবের দায়িত্ব নেন কফি আনান এবং তিনিই প্রথম জাতিসংঘের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে মহাসচিব হন। ২০০১ সালে তিনি মহাসচিব পদে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন, এবং ২০০৭ সালের জানুয়ারি বান-কি-মুনের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। জাতিসংঘের মহাসচিব থাকাকালে ইরাক যুদ্ধ এইডস মহামারি- দুটি সংকটে পড়েছিল বিশ্ব। এর মধ্যে ইরাক যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিবাদে জড়ান আনান। বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইরাক যুদ্ধকে "অবৈধ যুদ্ধ" বলেছিলেন আনান। নিরাপত্তা পরিষদ সম্প্রসারণ না করায় তিনি সমালোচিত হন এবং জাতিসংঘের তেলের-বিনিময়ে-খাদ্য কর্মসূচী নিয়ে তদন্তের পর তার পদত্যাগের দাবিও ওঠে। জাতিসংঘে কর্মজীবন সমাপ্তির পর আন্তর্জাতিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে ২০০৭ সালে তিনি "আনান কমিশন" গঠন করেন। এই অলাভজনক স্বাধীন প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের শাসনব্যবস্থা আরো কল্যাণমূলক করতে এবং সুন্দরতর শান্তিপূর্ণ একটি পৃথিবী গড়তে মানুষ দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে
২০১২ সালে তিনি চলমান সিরিয়া সংকট সমাধানে জাতিসংঘ-আরব লীগের যৌথ বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু সংকট সমাধানে জাতিসংঘের কাজে কোনো অগ্রগতি না দেখে তিনি অব্যাহতি নেন। ২০১৬- আগষ্টে তাকে মায়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট তদন্তে গঠিত একটি জাতিসংঘ কমিশনের প্রধান নিযুক্ত করা হয়, যা 'আনান কমিশন' নামে পরিচিত

নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্তিঃ
২০০১ সালে নোবেল পুরষ্কারের শতবর্ষে নোবেল কমিটি ঘোষণা দেয় যে, সেবছর শান্তি পুরষ্কার জাতিসংঘ এবং কফি আনানকে যৌথভাবে দেয়া হবে। জাতিসংঘকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং মানবাধিকারকে প্রাধান্য দেয়ায় আনানকে এই পুরষ্কার দেয়া হয়। নোবেল কমিটি আফ্রিকায় এইচআইভির বিস্তার রোধে তার অঙ্গীকার এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার অবস্থানের স্বীকৃতি দেয়।
মৃত্যুঃ
১৮ আগস্ট,২০১৮, বার্ন, সুইজারল্যান্ড। ৮০ বছর বয়সে এই বর্ণাঢ্য ব্যক্তির জীবনাবসান হয়।(সংগৃহিত)

Please Share This….

No comments